এই শীতে আপনার শিশুকে সুস্থ রাখবেন কীভাবে? How To Protect Baby in Winter Bangla tips

 শীতে শিশুকে সুস্থ ,সবল রাখার কৌশলঃ Protect Baby in Winter 

এই শীতে আপনার শিশুকে সুস্থ রাখবেন কীভাবে? How To Protect Baby in Winter Bangla tips
এই শীতে আপনার শিশুকে সুস্থ রাখবেন কীভাবে? How To Protect Baby in Winter Bangla tips



নভেম্বরের মাঝামাঝি এসেগেছি। আমাদের আবহাওয়া,  সকালের কুয়াশা, শিশির ভেজা ঘাস ,রাস্তা, গাছের পাতা, শরীরের ত্বকে টান ধরা এসবই জানান দিচ্ছে শীতকাল এসে গেছে ।সবারই হয়তো শীতের প্রস্তুতি নেওয়া শেষ। শীত ভালোই জাকিয়ে পড়তে শুরু করেছে।


এই সময়ে শিশুদের সমস্যা বেড়ে যায় ,কারণ তারা চাইলেই তাদের সমস্যার কথা বলতে পারে না তাই মা কেই বুঝে নিতে হবে তার সোনামণির ভালো-মন্দ সবকিছু। এমনিতে  শিশুদের ঠান্ডা লাগা ,জ্বর ,পেট ব্যাথা, সংক্রমন রোগের মতো একাধিক সমস্যা দেখা দেয় ।তাই শীতের এই সময় টাতে আপনার সোনামণিকে  অবশ্যই সাবধানে রাখুন।Baby Care Tips For Winter.

শীতে নবজাতকের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন কেন ?Why is Baby Care in Winter Essential?

একটি শিশুর জন্মের পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগে ।তাই প্রকৃতির অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে তার পড়তে হয় নানা সমস্যায় ।তার উপর অন্য সময়ের তুলনায় শীতকালে আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় বাতাসে ছড়িয়ে থাকা ভাইরাস , ব্যাকটেরিয়া অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে ,তাই আপনার সোনামণির চাই বাড়তি যত্ন ।কাজেই শীতের এ সময় টাতে অবশ্যই সাবধানে রাখুন আপনার শিশুকে ।যেকোন সম্যসায় ডাক্তারের পরামর্শ নিন সবার আগে ।How to Take care Of Newborn In Winter?

শীতে বাড়িতে শিশুর যত্ন নিবেন কীভাবে?

কিছুদিনের মধ্যেই জাকিয়ে শীত পড়তে শুরু করবে ।সূর্যের উত্তাপ ও কমতে শুরু করেছে ।

চলুন জেনে নেওয়া যাক কিভাবে আপনার সোনামণির যত্ন নিবেন -

১. শিশুর খাবারঃ

আপনার শিশুকে জন্মের পর থেকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ পান নিশ্চিত করুন ।মায়ের দুধই শিশুর আদর্শ খাবার ।নিয়মিত মায়ের দুধ পান করলে শিশুর কোন বাড়তি খাবারের প্রয়োজন হয়না ।বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ছয় মাস বয়স পর্যন্ত বাড়তি খাবার শিশুদের না দেওয়াই ভালো  ।  ছয়মাস বয়সের পর থেকে শিশুদের অল্প অল্প করে  বাড়তি খাবারে অবস্থ্য করুন । 

ডিমের কুসুম ,সবজির স্যুপ এবং ফলের রস খাওয়ানো উচিত। এসব খাবার আপনার শিশুর ত্বকের মসৃণতা ও উজ্জলতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। গাজর ,টমেটো শিশুদের ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। এসময় প্রচুর শীতের সবজি পাওয়া যায়।এসব সবজি দিয়ে খিচুড়ি রান্না করে খাওয়াতে পারেন শিশুকে। খেয়াল রাখবেন যেন কোন ধরনের ঠান্ডা খাবার না খায়। How To Protect Child from Cold Weather.

 ২. নিয়ন্ত্রণে রাখুন ঘরের উষ্ণতাঃ

 শীতকালে নবজাতকের ঘরের উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন ,কারণ নবজাতক শিশু তার নিজের দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এই সময়টাতে ঘরের দরজা-জানালা ঠিকমত বন্ধ রাখা প্রয়োজন। 

কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে যেন ঘরের ভিতরে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা থাকে। তবে দিনের বেলায় পর্যাপ্ত রোদ আসলে ঘরের দরজা-জানালা খুলে দিন এতে ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ঢুকবে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রুম হিটার ও ব্যবহার করতে পারেন ঘর উষ্ণ রাখতে।

 তবে লক্ষ রাখবেন -

রুম হিটারের তাপমাত্রা যেন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হয়ে না যায়। রুম হিটার রুমের আবহাওয়া শুষ্ক করে তোলে তাই প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার না করাই ভালো।


৪. শিশুর ত্বকের যত্নঃ

শিশুদের ত্বক বড়দের ত্বক থেকে আলাদা। শিশুদের ত্বক শীতের শুষ্কতা থেকে রক্ষা করতে বেবি লোশন ,বেবি ওয়েল ব্যাবহার করুন।

তবে লক্ষ্য রাখবেন, যে লোশন বা বেবি ওয়েল ব্যাবহার করছেন তা শিশুর ত্বকের কোন সমস্যা তৈরি করছে কিনা।যদি সমস্যা হয় তবে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে লোশন বা ক্রিম পরিবর্তন করে নিন।

 গোসলের আগে অলিভ অয়েল বা সরিষার তেল দিয়ে শিশুর শরীর মাসাজ করে নিতে পারেন। এতে গোসল করালে বাইরে ঠান্ডা আপনার নবজাতকের শরীরের ভিতরে ঢুকবে না।যদিও বর্তমান সময়ে  চিকিৎসকরা শিশুদের শরীরে সরিষার তেল ব্যবহার করতে নিষেধ করেন। 


কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার দেশ গুলিতে বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে অতি প্রাচীনকাল থেকে নবজাতক শিশুদের সরিষার তেল দিয়ে মাসাজ করে আসছে ।How to Take Care Baby Skin in Winter.

৫. পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করুনঃ

 শিশুর কাছে যাওয়ার পূর্বে হাত পরিষ্কার করা উচিত। নবজাতকের মা এবং যে শিশুকে সবসময় দেখাশুনা করবে তার বারবার হাত পরিষ্কার করে নিতে হবে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ও শিশুর কাছে যাওয়ার পূর্বে হাত পরিষ্কার করে নিবে। বাইরে থেকে এসেই কেউ সরাসরি শিশুর কাছে যাবেন না।

Read Also: শীতের রোগ বালাই থেকে সুরক্ষিত থাকার উপায়। Ways to Stay Safe From Winter Diseases 

৬. নিয়মিত মাসাজ করে দিনঃ

আপনার সোনামণির সারা শরীর নিয়মিত মালিশ(মাসাজ) করে দিন। শরীর মালিশ   করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো সংঘটিত হয় । চিকিৎসকরা মনে করেন যে রক্তের সঠিক সঞ্চালন  শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 


ঠান্ডা আবহাওয়ায় শিশুর দেহ মালিশ করার জন্য সরিষার তেল বা অলিভ অয়েল বা বেবি ওয়েল  ব্যবহার করতে পারেন। আপনার বাচ্চার যদি ঠান্ডার সমস্যা হয় তাহলে সরিষার তেলে জোয়ার এবং রসুন কুচি দিয়ে গরম করে সেই তেল দিনে কমপক্ষে একবার বুকে ,পিঠে,হাতের তলুতে এবং পায়ে মাসাজ করুন।

৭. শিশুর শরীর থাকুক উষ্ণঃ

সোনামণির শরীর সব সময়  উষ্ণ রাখার ব্যাবস্থা করতে হবে। সোনামণির হাত,মাথা ,পা বেশি ঠান্ডা হয় ।তাই পাতলা কাপড় বা উলের টুপি দিয়ে মাথা ডেকে  রাখা উচিত ।  

একটা জিনিস খেয়াল রাখবেন শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় অবশ্যই মাথা থেকে কাপড় দেওয়া থাকলে সেটা সরিয়ে নেবেন কারণ বুকের দুধ পান করার সময়  শিশুর শরীরের তাপমাত্রা এমনিতেই বেরে যায় ।

শীতে শিশুর নাক ঠান্ডা হয়ে যায় নাক তো আর কাপড় দিয়ে ঢাকা যায় না ।তাই আপনার গরম হাতটা আলতো করে লাগিয়ে নাকে ্‌উষ্ণতার পরশ দিন ।

 শিশুর হাত পা গরম রাখার জন্য হাত এবং পায়ের মোজা পড়াতে পারেন । তবে রাতে ঘুমানোর সময় শিশুর হাত এবং পা মোজা খুলে দেওয়াই ভালো  রাতে ঘুমানোর সময় হাত পা মোজা পড়ে থাকলে শিশুর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে ।

নরম কাপড়ের জামা পরিয়ে দিন ছোট শিশুকে। নবজাতকের জামা শরীরের উষ্ণতা ধরে রাখতে সাহায্য করে ।  জামা কেনার সময় খেয়াল রাখুন জামা যেন ওর জন্য আরামদায়ক হয়  নয়তো শিশুর শরীরের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ঘুমানোর সময় ফুলহাতা গেঞ্জি পড়াতে পারেন।

৮.  নিয়মিত টিকাদানঃ

শিশুর জন্মের পর থেকে নিয়ম মতো টিকা দিন। টিকা ধাপে ধাপে শিশুর শরীরের প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর নবজাতকের টিকা দেওয়া অত্যন্ত জরুরী। শীতের সময় জীবাণুর স্বক্রিয়তা বেশি থাকে।

 ৯.বাইরে যাওয়ার সময় যে জিনিস গুলো খেয়াল রাখবেনঃ

 শীতের সময়ে শিশুকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের করাই  ভালো । তবে টিকা বা চেকআপের জন্য আপনার সোনামণিকে বাইরে নিয়ে বাইরে যাওয়া প্রয়োজন হতেই পারে । বাইরে যাওয়ার সময় খেয়াল রাখুন ওর গায়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে গরম পোশাক রয়েছে কিনা । এছাড়াও সোনামণিদের কান , মাথা ও পায়ের পাতা ভালোভাবে ঢেকে নিন ।

 ১০.ভারী কাপড় ব্যাবহারঃ

আপনার শিশুকে অতিরিক্ত ভারী কাপড় না পড়িয়ে আরাম দায়ক নরম কাপড় পরান । শিশুদের রাতে ঘুমের সময় ভারী লেপ  দেবেন না এতে শিশুর শরীর নড়াতে পারে না । এমনকি  ঘুমের মধ্যে ওর মুখের উপর উঠে গেলে ওর শ্বাসকষ্ট হতে পারে । 

১১. শিশুর গোসলঃ

 শিশুদের প্রতিদিন গোসল করাতে পারেন কুসুম গরম পানি দিয়ে। গোসলের পর ওকে সাথে সাথে নরম তোয়ালে দিয়ে মুছে দিন। বেশি সময় ভেজা রাখবেন না ।বেশি শীতে একদিন পরপর গোসল করাতে পারেন। 

য়ে দিন গোসল করাবেন না সে দিন নরম কাপড় দিয়ে ওর সারা শরীর ভালোভাবে মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে দিন এতে শিশুর ত্বক ভালো থাকবে এবং ঠান্ডা লাগা সমস্যাও কমে যাবে। নরম কাপড় পরিয়ে দিন  ছোট্ট সোনামণিকে সকাল বারোটার আগে গোসল করানোর চেষ্টা করুন।  

সকালের রোদ শিশুদের শরীরের জন্য অনেক ভালো এতে ওর  শরীরে ভিটামিন ডি এর অভাব পূরণ হবে এবং এবং নবজাতকের জন্ডিস হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।

 ১২.ডাইপার পাল্টানোঃ

আমরা বর্তমান সময়ে ডায়াপার জিনিসটা খুব বেশি ব্যবহার করে থাকি শিশুদের জন্য। নবজাতককে বেশিক্ষণ ডাইপার পরিয়ে রাখবেন না। তিন ঘন্টা পর পর  ডাইপার পরিবর্তন করুন। 

কই ডাইপার পড়ে যদি বেশিক্ষণ থাকে নবজাতকের বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ হতে পারে  ডাইপার  পরানোর পূর্বে যে জায়গা টুকু ঢাকা থাকে সেখানে টা নরম কাপড় দিয়ে মুছে নিয়ে ক্রিম লাগিয়ে তারপর ডাইপার ব্যাবহার করবেন ।অবশ্যই ভালোমানের ডাইপার ব্যাবহার করবেন।

মনে রাখবেন আপনার সোনামণির য়ে কোন সম্যসায় সবার প্রথমে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।যত্নে রাখুন বাড়ির নতুন অতিথীকে। শিশুর যত্নের সাথে সাথে মায়ের নিজের প্রতিও যত্নবান হতে হবে।কারন মা সুস্থ থাকলেই শিশুর দেখভাল ঠিকমতো করতে পারবে।


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post